৬ষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বানাচ্ছে ইরানের বিজ্ঞানীরা। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ইরানের বিজ্ঞানীরা ৬ষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির পরিকল্পনা বা সক্ষমতা নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষক মহলে বেশ আলোচনা চলছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইরান বিগত বছরগুলোতে তাদের প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। ইতিপূর্বে তারা নিজেদের প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কাহের এফ-৩১৩’ এবং ‘সায়েকেহ’ এর মতো যুদ্ধবিমান তৈরির দাবি করেছে।
তবে সামরিক প্রযুক্তির বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬ষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করলেও, একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর যুদ্ধবিমান তৈরি করা ইরানের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। নিচে এ সংক্রান্ত মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো: ইরান ১৯৯২ সাল থেকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ট্যাঙ্ক, ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন ও ড্রোন যেমন: শাহেদ ১২৯, মহাজের ইত্যাদি তৈরি করে আসছে। তাদের বিজ্ঞানীরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ও রাডার এড়াতে সক্ষম প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা বাড়াচ্ছেন।
ইরান সম্প্রতি রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা ইরানের ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমান প্রকল্পের বিজ্ঞানীদের কাজকে আরও গতিশীল করতে পারে। ৬ষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটারের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী সুপারক্রুজ ইঞ্জিনের প্রয়োজন হয়, যা তৈরি করা অত্যন্ত জটিল। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে অত্যাধুনিক চিপ, সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চপ্রযুক্তির কাঁচামাল আমদানিতে ইরান বড় ধরণের বাধার সম্মুখীন।
৬ষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করতে বিলিয়ন ডলারের বাজেট এবং কয়েক দশকের নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন। বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশ যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও তুরস্ক বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার জেট প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে। ইরান এই দৌড়ে নিজেদের অবস্থান কতটা সুসংহত করতে পারে, তা তাদের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির প্রদর্শনীর মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
_6a9acc02b583e.png)